adds

শৈশবের গলি থেকে জীবনের মোড়ে

                                                    শৈশবের গলি থেকে জীবনের মোড়ে


পুরোনো কলকাতার উত্তরপাড়া লেনে পাশাপাশি দুটি বাড়ি ছিল—একটি রায় পরিবার, অন্যটি দত্ত পরিবার। দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্কটা ঠিক প্রতিবেশী বা আত্মীয়তার গণ্ডিতে আটকে ছিল না, ছিল এক পরিবারের মতো। রায় পরিবারের একমাত্র ছেলে অয়ন, আর দত্ত পরিবারের একমাত্র মেয়ে মেঘা। অয়ন মেঘার চেয়ে এক বছরের বড় হলেও তাদের বন্ধুত্বের গভীরতায় বয়সের এই ব্যবধান কখনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

ছোটবেলা থেকেই দুজনেই পড়াশোনায় দারুণ ছিল। স্কুলের ক্লাসে ফার্স্ট বা সেকেন্ড হওয়াটা যেন তাদেরই নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। তবে দুজনের স্বভাবের মধ্যে একটা মজার তফাত ছিল। অয়ন পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকতে ভালোবাসতো, গিটার বাজাতো, পাড়ার টুর্নামেন্টেও তার ভালো নামডাক ছিল। কিন্তু মেঘা ছিল পুরোপুরি ব্যতিক্রম। সে পড়াশোনা নিয়ে সবসময় একপ্রকার গম্ভীর জুজুর মতো পড়ে থাকত। একটু কম নম্বর পেলেও মেঘার চোখ জলে ভেসে যেত।

অয়ন দূর থেকে মেঘার এই জেদ আর পড়ার প্রতি টান দেখত। মেঘার প্রতি এক অদ্ভুত মায়া কাজ করত তার মনে, যা ধীরে ধীরে ভালোলাগার  রূপ নিতে শুরু করেছিল। অয়নের মা ঊর্মি দেবী যখন বলতেন, "রেণু, তোর মেঘা তো পুরো বইয়ের পোকা!", তখন অয়ন মনে মনে ভাবত, 'এই বইয়ের পোকাটার মধ্যেই তো আমার আস্ত পৃথিবীটা লুকিয়ে আছে।'


                


সময় বয়ে চলেছিল। হাইস্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে তারা কৈশোরের দোরগোড়ায় পা রাখল। অয়নের মনে মেঘাকে নিয়ে জমা হওয়া অনুভূতিগুলো আর লুকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। কিন্তু সরাসরি মেঘাকে বলতে তার বুক কাঁপত। পাছে মেঘা পড়াশোনা থেকে বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়, কিংবা বিরক্ত হয়!

শেষ পর্যন্ত অয়ন তার এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী স্নেহার সাহায্য নেয়। এক বিকেলে স্কুল ছুটির পর স্নেহা মেঘার ব্যাগের ভেতর একটা ছোট চিঠি গুঁজে দেয়, যেখানে অয়ন তার মনের কথা খুব সরলভাবে লিখেছিল—মেঘাকে সে কতটা পছন্দ করে এবং আগামী দিনগুলোতেও পাশে থাকতে চায়।

চিঠিটি পড়ে মেঘার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। তার কাছে পড়াশোনা ও পরিবারের সম্মান ছিল সবচেয়ে বড় কথা। সে ভয় পেয়ে যায় যে, এই বয়সে এসব রোমান্টিক ব্যাপার নিয়ে চর্চা শুরু হলে তার অভিভাবকরা জানতে পারবেন এবং দুই পরিবারের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে। ভয়ে এবং রাগে মেঘা অয়নের ওপর প্রচণ্ড চটে যায়। সে শুধু চিঠিটা ফেরতই দেয় না, বরং স্নেহার মাধ্যমে অয়নকে সাফ জানিয়ে দেয় যে, সে যেন এসব ফালতু বোকামো বন্ধ করে নিজের পড়াশোনায় মন দেয়। মেঘার সেই কঠোর কথাগুলো অয়নের কিশোর মনে গভীর আঘাত করেছিল। সে ভেবেছিল, মেঘা তাকে কেবল অপছন্দই করে না, বরং তার অনুভূতিকে অপমান করেছে।

                                             to be continue.......

Post a Comment

0 Comments